মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৭:৩২
জীর্ণ ও পুরোনো জ্ঞান হাওজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কাজে আসে না

হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি নতুন ও সুস্থ-সবল জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন: যে জ্ঞান জীর্ণ ও পুরোনো হয়ে গেছে, তা না হাওজাকে বিকশিত করতে পারে, আর না বিশ্ববিদ্যালয়কে মর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই এমন জ্ঞান অর্জন করতে হবে, যা কখনো পুরোনো হয়ে যাবে না। আর যদি তাতে পুরোনো হয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত ও সংস্কার করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি আমল শহরের হাওজায়ে ইলমিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনা উপলক্ষে এক ভিডিওবার্তায় আলেম, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি ও হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে জ্ঞান, মানুষ এবং মানুষের জ্ঞান অর্জনের পথের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, জ্ঞান তার বিষয়বস্তুর মর্যাদার কারণে মূল্যবান এবং আলেম তার জ্ঞানের কারণে মর্যাদাশীল। তিনি জ্ঞানকে সৃষ্টিজগতের মৌলিক স্তম্ভগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে পবিত্র কুরআনের আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আল্লাহ তাআলা নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং মানুষের প্রতি প্রথম শিক্ষাদান করেছেন:

﴿وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ کُلَّهَا﴾
“আর তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন।”

এরপর:

﴿عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ﴾
“তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।”

আল্লাহ তাআলা জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি ও অস্তিত্বের ব্যবস্থা শুরু করেছেন, জ্ঞানের মাধ্যমেই তা পরিচালনা করছেন এবং জ্ঞানের মাধ্যমেই তা পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি জ্ঞান ও রহমতের গভীর সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে সূরা আর-রহমানের আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:

﴿الرَّحْمَٰنُ ٭ عَلَّمَ الْقُرْآنَ ٭ خَلَقَ الْإِنسَانَ ٭ عَلَّمَهُ الْبَیَانَ﴾

অর্থাৎ আল্লাহর শিক্ষাদানের পথ রহমত থেকে শুরু হয়, এরপর কুরআনের শিক্ষা, তারপর মানুষ সৃষ্টি এবং সবশেষে তাকে বক্তব্য ও ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

অর্থাৎ প্রথমে “আর-রহমান”, দ্বিতীয়ত “তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন”, তৃতীয়ত “তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন” এবং চতুর্থত “তাকে বক্তব্য শিক্ষা দিয়েছেন।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মানুষের জিহ্বা ও কলম থেকে যে কথা ও লেখা বের হয়, তা তখনই প্রকৃত “বয়ান” বা অর্থবহ বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে, যখন তা এমন একজন মানুষের কাছ থেকে প্রকাশিত হয়, যে কুরআনের ছাত্র এবং আল্লাহর শিক্ষা দ্বারা শিক্ষিত। পক্ষান্তরে, যার কথা ও লেখা প্রবৃত্তি, কামনা-বাসনা ও নফসের চাহিদা থেকে উৎসারিত, তা প্রকৃত বয়ান নয়।

তিনি আরও বলেন, হাওজা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচ্য চারটি মৌলিক দিক হলো-প্রথমে তাওহিদ, এরপর কুরআনের শিক্ষা, তারপর মানুষ হয়ে ওঠা, এবং সবশেষে কথা বলা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।

জ্ঞান ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক

হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি তাঁর বক্তব্যের আরেক অংশে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর জ্ঞান ও ঈমান সম্পর্কিত বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করে জ্ঞান ও ঈমানের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন:

«بِالْإِیمَانِ یُعْمَرُ الْعِلْمُ»

অর্থাৎ “ঈমানের মাধ্যমে জ্ঞান সমৃদ্ধ ও জীবন্ত হয়।”

তিনি বলেন, জ্ঞান কখনো কখনো জীর্ণ ও পুরোনো হয়ে যায়। আর যে বিষয় জ্ঞানকে সংস্কার করে, জীবন্ত রাখে এবং কার্যকর করে তোলে, তা হলো ঈমান। ঈমানই জ্ঞানকে প্রাণবন্ত, সতেজ ও ফলপ্রসূ রাখে।

তিনি আরও বলেন, জীর্ণ ও প্রাণহীন জ্ঞান কোনো সভ্য সমাজ গড়ে তুলতে পারে না। এমন হাওজাই সমৃদ্ধ হতে পারে এবং সমাজকে সমৃদ্ধ করতে পারে, যার জ্ঞান শুধু জীবন্তই নয়, বরং সুস্থ ও সমৃদ্ধ। আর জ্ঞানের প্রকৃত সমৃদ্ধি আসে ঈমানের মাধ্যমে।

যদি কোনো ব্যক্তি নিজের পথ চিনতে পারে, সেই পথে অগ্রসর হয় এবং অন্যের পথ বন্ধ না করে, তাহলে তার এই জ্ঞান “মামুর”-অর্থাৎ সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত। সমৃদ্ধ হাওজা সমাজকে সমৃদ্ধ করবে এবং সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ও সমাজকে সমৃদ্ধ করবে।

তখন আর কোনো যুদ্ধ থাকবে না, সেই দুই দানবসদৃশ পরাশক্তির আগ্রাসনও থাকবে না। কেউ পথভ্রষ্ট হবে না এবং কেউ অন্যের চলার পথও বন্ধ করবে না।

নতুন ও সুস্থ জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা

হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি নতুন ও সুস্থ জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দিয়ে বলেন: যে জ্ঞান জীর্ণ ও পুরোনো হয়ে গেছে, তা না হাওজাকে বিকশিত করতে পারে, আর না বিশ্ববিদ্যালয়কে মর্যাদাশীল করতে পারে। তাই এমন জ্ঞান অর্জন করতে হবে, যা পুরোনো হয়ে যাবে না। আর যদি তাতে পুরোনো হয়ে যাওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা দেয়, তাহলে ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে তাকে সংস্কার করতে হবে।

তিনি হাওজা ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাফল্য কামনা করে আশা প্রকাশ করেন যে, আমাদের হাওজা এমন একটি হাওজায় পরিণত হবে, যেখানে “ঈমানের মাধ্যমে জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়”, এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ও এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে, যেখানে “ঈমানের মাধ্যমে জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়।”

হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি ইরানি জাতির সম্মান ও মর্যাদা, ইসলামী ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং আলেম, তালাবা ও ধর্ম ও সমাজের সকল সেবকের সাফল্যের জন্য দোয়া করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইসলামী সমাজ একটি আলাভি সমাজে পরিণত হবে এবং এই ব্যবস্থা তার প্রকৃত ও আসল অধিকারী হযরত ওলিয়ে আসর ইমাম মাহদি (আ.)-এর হাতে অর্পিত হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha